মালচিং এবং কম্পোস্টিং
সামারের সময় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য মালচিং করা খুবই উপকারী । আপনার ভেজিটেবল বেড মালচং (Mulch) দিয়ে ডেকে রাখতে হবে । এতে শুধু মাটির আর্দ্রতাই রক্ষা হয় না , আগাছাও সহজে বেরে উঠতে পারে না । কি ধরনের মালচ ব্যবহার করা যেতে পারে ? Bunnings এ বিভিন্ন ধরনের এবং মূল্যের মালচ (Mulch)পাওয়া যায় । যেমনঃ বিভিন্ন সাইজের কাঠের গুঁড়া , আবার আখের ছোঁবরাও পাওয়া যায় । তবে আমি ব্যবহার করি খড়( straw) । স্হানীয় কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে কিনতে পারা যায় । খড় সহজেই পচে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে । একটা সমিক্ষায় দেখা গেছে - ৪ সেমি পুরু খড়ের মালচিং ৭৩% পর্যন্ত মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করতে পারে । তবে লক্ষ্য রাখতে হবে মালচিং এর পুরুত্ব যেন খুব বেশি মোটা না হয়ে যায় এতে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে । অতিরিক্ত মালচিং গাছের গোড়াতে পানির প্রতিবন্ধকও হতে পারে ।
ভালো মানের কম্পোস্ট গাছের বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উপাদানে সমৃদ্ধ থাকে । বিশেষ করে সামারের অতিরিক্ত গরমের সময় ভালো মানের কম্পোস্ট গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ধরে রেখে সারা দিনের উত্তাপ থেকে গাছকে রক্ষা করে।
উত্তাপ থেকে রক্ষা
মনে রাখবেন সামারের কিছু দিন কিন্তু প্রচন্ড গরম হতে পারে। আর যদি ক্যানবেরার আশেপাশে বুশ ফায়ার হয় তাহলে তো তাপমাত্রা মরুভূমির মতই ৪০+ । সে ক্ষেত্রে ছোট খাটো গাছপালা যেমন মরিচ , টমেটু , বেগুন লালশাক সম্ভব হলে ঠেকে দিতে হবে। কাঁঠ বোর্ড ব্যবহার করা যেতে পারে কিংবা ব্যবহৃত পুরানো পানির পাইপ দিয়ে টানেলের মত করে পুরানো সাদা কাপড দিয়ে ঠেকে দেওয়া যেতে পারে। আবার টবের গাছপালা পারগোলা কিংবা ডেকের নিচে রেখে প্রচন্ড গরম থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।
নিয়মিত পানি প্রদান
কিছু কিছু গাছের ক্ষেত্রে সরাসরি পাতা কিংবা ডালপালায় পানি প্রদান থেকে বিরত থাকা উচিত । যেমন- টমেটু , শশা, কুমড়া , জুকিনির পাতায় বেশী পানি পেলে ছত্রাক জাতীয় রোগের সম্ভবনা থাকে । পুরো জাগাতে পানি না দিয়ে গাছের গোঁড়ায় দেয়ার চেষ্টা করতে হবে ।
আগাছা পরিস্কার
নিয়মিত আগাছা পরিস্কার করে রাখতে হবে । মনে রাখবেন আগাছা গাছের খাদ্যে ভাগ বসায়, যার ফলে গাছ প্রয়োজনীয় খাবার থেকে বঞ্চিত হয়ে ফসল উৎপাদনে অপারগ হয়ে পরতে পারে।
সহায়ক পোকা মাকড়ের আগমন
মনে রাখবেন সব পোকা মাকড়ই কিন্তু গাছের জন্য খারাপ না । বরঞ্চ বেশ কিছু পোকা মাকড় রয়েছে যা গাছের জন্য খুবই উপকারী । সুতরাং সব সময়ই কিছু ফুলের গাছ রাখবেন , এতে পরাগায়নে সুবিধা হবে ।রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন , প্রয়োজন হলে জৈব উপায় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন ।
ফসল নিয়মিত গাছ থেকে তুলুন
মনে রাখবেন গাছের ফলন নিয়মিত তুলতে ভুলবে না । এটা গাছকে নিয়মিত এবং দীর্ঘ দিন আঁরও অধিক ফসল উৎপাদনে অনুপ্রাণিত করে ।
আরও একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন । সামারের শেষের দিকে ভেজিটেবল বেডের কিছু অংশ শীতকালিন চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত রাখুন । কিছু শীতকালীন সবজি যেমন, বিভিন্ন ধরনের লেটুস যাঁ পুরোপুরি শীত শুরুর আগেই অর্থাৎ সামারের শেষে কিংবা শরৎ এর শুরুতেই লাগাতে হবে , যাতে পুরো মাত্রায় শীত শুরুর আগের পরিপূর্নতা পায় ।