-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
ধনেপাতা শুধু খাবারে সৌন্দর্য এবং সুগন্ধই আনে না, এর রয়েছে অনেক উপকারিতা।
ধনে গুঁড়ো বেশিরভাগ মানুষ মসুর ডাল বা তরকারিতে ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, তাজা ধনেপাতার চাটনি খুবই সুস্বাদু। কিন্তু আপনি কি জানেন যে ধনেপাতা শুধু খাবারে সৌন্দর্য এবং সুগন্ধই আনে না, এর সঙ্গে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা, ধনিয়া গাছ এবং বীজ উভয়ই রান্নার জন্য ব্যবহার করা হয়। ধনেপাতার রয়েছে একগুচ্ছ ঔষধি গুণও।
শীতকালে ডাল, তরকারিতে যদি সামান্য একটু ধনে পাতা দেওয়া হয়, তাহলে সেই রান্নার স্বাদই আলাদা।
ধনে পাতা (Coriander), বৈজ্ঞানিক নাম Coriandrum sativum, একটি জনপ্রিয় মশলা উদ্ভিদ যা বিশ্বব্যাপী রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ বপনের সময়কাল হলো শীতকালের শুরু বা বসন্তের প্রারম্ভে, যখন মাটির তাপমাত্রা সামান্য ঠান্ডা থাকে।
ক্যানবেরাতে ধনে পাতার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারি , মার্চ । আপনারা যারা টবে আগাম ধনে পাতা করতে চান - অক্টোবরে টবে বীজ বপন করে একটা স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে টবের মুখটা বেধে দিয়ে সারা দিন সূর্যের আলো পায় এমন জায়গায় রেখে দিন এবং রাতের ঠান্ডা থেকে দুরে রাখুন ।
আশা করা যায় - ৩০-৪৫ দিনেই চারা গজাবে ।
ধনে গাছ সমতল ও সূর্যালোকপূর্ণ জায়গায় ভালো জন্মে। গাছের গোঁড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে , সে দিকে লক্ষ্য রাখুন । হালকা মৃদু শীতল আবহাওয়া এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী,সে জন্যই বলা যায় ক্যানবেরার সামার এর জন্য সবচেয়ে সহায়ক আবহাওয়া ।
ধনে গাছ বেগুন, টমেটো বা আলুর মতো সবজির পাশাপাশি ভালো জন্মে। তবে যারা টবে চাষ করতে চান , সহায়ক উদ্ভিদ সে ক্ষেত্রে তেমন একটা প্রয়োজন হয় না ।
তবে যদি বীজ সংগ্রহ করতে চান , সে ক্ষেত্রে বাগানে কিছু ফুলের গাছ যেমন গাঁদা , সন্ধামালতি রাখুন । এরা ফুলের পরাগায়নে সহায়ক।
আফিড, পাতা খেকো পোকা এবং মাকড় ধনের গাছের প্রধান শত্রু। এগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য জৈব পদ্ধতি যেমন - পিয়াজ কিংবা রসুনের খোশা ভেজানো পানি , হালকা সাবান কিংবা ডিস ওয়াসিং লিকুইড মিশ্রিত পানি স্প্রে করুন। বাগানে রোজমেরি গাছ থাকলে কিছু রোজমেরির ঠাল কেটে আশেপাশে ছড়িয়ে রাখুন ।
ভালো ফলনের জন্য উচ্চমানের ও রোগমুক্ত বীজ নির্বাচন জরুরি।
Bunnings এ ধনিয়ার বীজ সবসময়ই পাওয়া যায়, মৌসূমে ALDI তে ও পাবেন । এ ছাড়া দেশি কিংবা ইন্ডিয়ান দোকানে আস্ত ধনিয়া পাওয়া যায়, সেটাও রোপন করতে পারেন তবে খেয়াল রাখতে হবে যেনো ভাজা না হয়।
বীজ বপনের আগে মাটি ভালোভাবে তৈরি করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত জৈব সার ( গোবর কিংবা ভেড়া / ছাগলের) প্রয়োগ করে মাটি তৈরি করে নিন ।
বীজ সারি সারি করে বা ছড়িয়ে বপন করা হয়। প্রতি সারির মধ্যে প্রায় ২০-৩০ সেমি দূরত্ব রাখা উচিত।
বীজতলায় নিয়মিত পানি দিন ও মাটি আলগা রাখা জরুরি। ছায়াময় পরিবেশ ধনের বীজের জন্য উপকারী।
নিয়মিত আগাছা পরিস্কার করুন ।
উচ্চমানের জৈব সার কিংবা সিসল মিশ্রিত পানি দিন।
নিয়মিত জমি থেকে আগাছা তুলে ফেলা এবং পরিচর্যা করা প্রয়োজন।
ধনে গাছের বৃদ্ধির প্রধান পর্যায় হলো অঙ্কুরণ, পাতা বিকাশ, ফুল ফোটা এবং বীজ পরিপক্ক হওয়া।
ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও ভাইরাস ধনের প্রধান রোগ। প্রাকৃতিক উপায়ে বা বিশেষ কীটনাশক দিয়ে এগুলো দমন করা যায়।
বীজ পুরোপুরি পরিপক্ক হলে তা সংগ্রহ করুন। পাতা ও বীজ উভয়ই ব্যবহৃত হয়।
ধনে হজম সহায়ক, এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী সম্পন্ন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ধনিয়ার আরও কিছু গুনাবলী
পেটের সমস্যা দূর করে।
চুল ওঠা ও খুসকির সমস্যা দূর করে।
হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে।
ধনিয়া পাতায় রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা বাতের ব্যথা কমায়।
শুকনো ও ঠাণ্ডা স্থানে বীজ সংরক্ষণ করুন, এতে বীজ দীর্ঘমেয়াদে তাজা থাকে।