-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
লালশাক একটি পুষ্টিকর এবং সহজে উৎপাদনযোগ্য শাক, যা ক্যানবেরা অঞ্চলে ভালো ফলন দেয়। এটি তার উজ্জ্বল লাল রঙ এবং মিষ্টি স্বাদের জন্য পরিচিত। লালশাক ভিটামিন এ, সি এবং কে, সাথে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ।
লালশাক চাষের আগে মাটির প্রকৃতি, জলনিষ্কাশন এবং স্থানীয় আবহাওয়ার বিবেচনা করা জরুরি। উপযুক্ত পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি ভালো ফলন নিশ্চিত করে।
তার চেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ এটি সম্পূর্ণরূপে কীটনাশক মুক্ত নিজের হাতে, নিজের বাগানে তৈরি বিষমুক্ত শাকসবজি। যা আপনি অল্প প্রচেষ্টায় আপনার পরিবারের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন, এর থেকে ভালো কিছু আর কি হতে পারে?
ক্যানবেরায় লালশাকের বীজ বপনের আদর্শ সময় হলো ডিসেম্বর , জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারি । এ সময় আবহাওয়া বীজ অঙ্কুরণের জন্য খুবই সহায়ক ।
লালশাক ভালো জন্মে উর্বর মাটিতে যেখানে পানি জমে থাকেনা এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পেয়ে থাকে। ক্যানবেরার সামারে তাপমাত্রা যখন ২০ উপরে থাকবে তখনই লালশাক ভালো ফলন দেবে।
পৃথিবীর অন্যান্য স্হানে যারা চাষ করতে চান, আপনারা স্হানীয় তাপমাত্রারা কে অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন।
লালশাক চাষের ক্ষেত্রে সহায়ক উদ্ভিদের খুব একটা প্রয়োজন পরেনা ।
লালশাকের প্রচলিত কীটপতঙ্গ হলো পাতা খেকো পোকা এবং আফিড। জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে এগুলো দমন করা সম্ভব।
উচ্চমানের এবং রোগ প্রতিরোধী বীজ নির্বাচন ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
তবে এখানকার দোকান গুলোতে লালশাকের বীজ সহজলভ্য না । সাধারন বাংলায় - পাওয়া যায় না । সুতরাং বীজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের কোন স্বাধীনতাই না ।
তবে আশা করছি ভবিষ্যতে আমাদের “ সিড ব্যাংক “এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
বীজ বপনের আগে জমি ভালোভাবে তৈরি করা প্রয়োজন। মাটিতে জৈব সার যেমন গোবর কিংবা ছাগল/ ভেড়ার সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নেবেন ।
লালশাকের বীজ সরাসরি মাটিতে বপন করা যায়।বীজ বপনের সময় প্রতি সারিতে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
খেয়াল রাখতে হবে, যতদিন বীজগুলি সব অঙ্কুরিত না হচ্ছে, ততদিন যেন মাটি সবসময় ভিজে থাকে। মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে কিন্তু বীজের অঙ্কুর হতে সমস্যা হবে। অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে যেতে দেখলে, তবেই পানি দেবেন। যদি কখনো দেখেন পোকাতে গাছের পাতা খেয়ে ফেলছে, তা হলে পেয়াজ অথবা রসুনের খোসা ভেজানো পানি স্প্রে করতে পারেন সপ্তাহে দুবার, যতদিন না সমস্যার সমাধান হচ্ছে।পাশাপাশি রোজমেরির পাতা ছড়িয়ে দেবেন।
তবে আরও একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যাতে মোটামুটি ভাবে সব জায়গায় সমান পরিমান দানা পড়ে, তা না হলে যেদিকে বেশি দানা পড়বে সেখানে গাছ ঘন হবে, আর সকলে সমান পুষ্টি পাবে না।
নিয়মিত পানি দিয়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং মাটি আলগা রাখা জরুরি।
সাবধানে পুরো মাটি ভালোভাবে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। খুব জোরে পানি দিলে কিন্তু মাটি সরে বীজ বেরিয়ে আসবে এবং বীজগুলি ভেসে একদিকে চলে যাবে।
ভালোভাবে পানি দেওয়ার পর আপনারা যারা টবে লাগাবেন, টবটি সূর্যের আলো পায় এমন জায়গায় রেখে দেবেন।
একবার বীজ বোনার পর পানি দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজই নেই, কোনো অতিরিক্ত সারও ব্যবহার করতে হবে না।তবে সপ্তাহে ২/১ দিন সিসল মিশ্রিত পানি দিলে গাছের পুষ্টি বাড়বে।
নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা উচিত যাতে লালশাক ভালোভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
লালশাকে পাউডারি মিলডিউ এবং লিফ স্পটের মতো রোগ দেখা দিতে পারে।
নিয়মিত জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে এই সকল রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ।
পরিপক্ক হলে লালশাক সংগ্রহ করুন ।
পুরো গাছ তুলে না ফেলে নিয়মিত পাতা সংগ্রহ করলে এক গাছ থেকেই বেশ কিছু দিন শাক পাওয়া যেতে পারে।
লালশাক অত্যন্ত পুষ্টিকর, এতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ, সি, কে এবং খনিজ পদার্থ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই শাক রক্তের স্বাস্থ্য উন্নতি, হাড়ের শক্তি বাড়ানো, এবং চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এর ফাইবার সমৃদ্ধ গঠন হজমে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী।
বীজ শুকিয়ে এবং শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করতে পারেন ।