-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
মিষ্টি কুমড়া একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর সবজি যা ক্যানবেরার মাটিতে ভালো ফলন দেয়। এর সঠিক চাষাবাদ শরীরের জন্য উপকারী খাদ্য প্রদান করে।
খুব সহজেই আবাদ যোগ্য একটা সবজী । একে বারেই যত্নআত্তি দাবী করেনা । কচি মিষ্টি কুমড়া সবজি হিসেবে এবং পাকা ফল দীর্ঘদিন রেখে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পরিপক্ক ফল শুষ্ক ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় প্রায় ৪-৬ মাস সংরক্ষণ করা যায়। মিষ্টি কুমড়া ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনে সহায়কও বটে।
ক্যানবেরায় মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপনের উত্তম সময় হলো বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু, যখন মাটির তাপমাত্রা উষ্ণ হয়ে ওঠে।
সহজ করে বললে - ক্যানবেরাতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বরের শেষে কিংবা ডিসেম্বর।
মিষ্টি কুমড়া ভালো জন্মে সূর্যালোকে সমৃদ্ধ এবং ভালো জলনিষ্কাশন সম্পন্ন মাটিতে। ক্যানবেরার মৃদু জলবায়ু এই সবজির জন্য আদর্শ।
ক্যানবেরার আবহাওয়াতে Kent এবং Butternut উভয় প্রজাতির মিষ্টি কুমড়াই ভালো ফলন দেয়।
মিষ্টি কুমড়ার সাথে মরিচ, মিষ্টি আলু, এবং বীনজাতীয় উদ্ভিদ ভালো সহজীবন গড়ে তোলে। এগুলি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং কীটপতঙ্গ দূরে রাখে।
আপনার Backyard এ যদি পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তাহলেই কেবল সাথী ফসলের কথা ভাবতে পারেন। তবে যদি তেমন জায়গা না থাকে চেষ্টা করবেন কিছু ফুলের গাছ যেমন গাঁদা কিংবা সন্ধামালতি। (যা সহজেই হয়) যেন থাকে। এতে পরাগায়নে সহায়তা করে এবং ফলনও ভালো হয়।
মিষ্টি কুমড়ার প্রধান কীটপতঙ্গ হলো স্কোয়াশ বোরার এবং পাতা খেকো পোকা। এদের দমনের জন্য প্রাকৃতিক উপায় এবং নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে মিষ্টি কুমড়াতে খুব একটা পোকা মাকরের আক্রমন হয় না । যদি হয় সে ক্ষেত্রে - পেয়াজ কিংবা রসুনের খোসা ভেজানো (জৈব পদ্ধতি) পানি নিয়মিত স্প্রে করতে হবে। রোজমেরি ছড়ায়ে রাখলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
উচ্চমানের এবং রোগ প্রতিরোধী বীজ নির্বাচন ভালো ফলন নিশ্চিত করে।
সাধারনত যে সব মিষ্টি কুমড়া আমরা ক্যানবেরার দোকান গুলেতে দেখি, যেমন Kent বা Butternut , এগুলো খুব সহজেই আপনার backyard এ হতে পারে । এদের জন্য খুব উন্নতমানের মাটির দরকার পরে না, তবে নিয়মিত পানির প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্ভর করে তাপমাত্রা কতটুকু উঠানামা করে তার উপর।
আমাদের বাসা গুলোতে সাধারনত খুব একটা জায়গা থাকে না , সে ক্ষেত্রে বাসার সামনে সরকারী জায়গা কিংবা walking path এর পাশের খালি জায়গাতে লাগানো যেতে পারে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, মানুষের হাঁটার যেনো সমস্যা না হয় । এইসব জায়গা ব্যবহারের জন্য সরকারের অনুমোদনেরও দরকার পরেনা । তবে বাড়ীর সৌন্দর্যের দিকেও খেয়াল রাখবেন।
মিষ্টি কুমড়ার বীজ সরাসরি মাটিতে বা বীজতলায় বপন করা হয়।যদি একাধিক গাছ আশা করেন তা হলে বীজ বপনের সময় একটু দূরত্ব রাখা উচিত।
বীজ কোথায় পাবেন
Bunnings এ মিষ্টি কুমড়ার চারা এবং বীজ কিনতে পাওয়া যায়। তবে আরও একটা সহজ উপায় বীজ সংগ্রহ করা যায়। বাজার থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে তা থেকে অনায়াসেই বীজ সংগ্রহ করা যায়। Bunnings এ ২/৩ টা চারা গাছের দাম $৪-$৫ ।সেখানে একটা মিষ্টি কুমড়া কিনে অনায়াসেই ৩০/৪০টা বিচি আশা করা যায়। আর মিষ্টি কুমড়ার বিচির অঙ্কুরোদগমের হারও ভালো।
মিষ্টি কুমড়া বেশ কষ্টসহিষ্ণু গাছ তবে ক্যানবেরার তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে সেচ/পানির ব্যবস্হা করতে হবে।
আগেই বলেছি মিষ্টি কুমড়া কষ্টসহিষ্ণু গাছ আলাদা করে খুব বেশী খাবারদাবার দাবী করে না । তবে ভালো ফলন আশা করলে নিয়মিত Seasol দিতে হবে।
নিয়মিত জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
মিষ্টি কুমড়ায় পাউডারি মিলডিউ এবং রুট রটের মতো রোগ হতে পারে। এগুলো দমনের জন্য প্রাকৃতিক উপায় এবং ফাংগিসাইড ব্যবহার করা উচিত। জৈব পদ্ধতির কথা আগেই উল্লেখ করেছি ।
ফল পুরোপুরি পরিপক্ক হলে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করা হয়। পরিপক্কতা বোঝার জন্য ফলের রঙ এবং পৃষ্ঠের কঠিনতা লক্ষ্য করা হয়।
মিষ্টি কুমড়া একটি উচ্চ পুষ্টিকর সবজি যার অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে:
- পুষ্টি সমৃদ্ধ: মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, সি, এবং ই সমৃদ্ধ, যা ইমিউনিটি বৃদ্ধি, ত্বকের সুস্থতা, এবং চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
- ফাইবারে পূর্ণ: এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উৎস: মিষ্টি কুমড়ায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুক্ত র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে দেহকে রক্ষা করে।
- হার্ট স্বাস্থ্য: এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, কারণ এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: মিষ্টি কুমড়ার নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এই উপকারিতাগুলো মিষ্টি কুমড়াকে একটি মূল্যবান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে গড়ে তোলে।
দেশে সাধারনত চিংড়ি মাছ দিয়ে মিষ্টি কুমড়া জনপ্রিয় একটি খাবার । তবে Butternut মিষ্টি কুমড়া একটু মোটা করে কেটে, বাটার এবং পরিমান মত লবন দিয়ে ওভেনে বেক করা যেতে পারে । দারুন উপাদেয় এবং স্বাস্হ্য সচেতন খাবারও বটে।