-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
বাংলাদেশের বিভিন্ন রান্নায় যেমন বেগুনের ব্যপক ব্যবহার হয়, তেমনই ক্যানবেরার বাঙালি মহলে এর বহুবিদ সমাদর ।
বেগুন ভর্তা, বেগুন পোড়া, এবং রোজার সময় বেগুনী বানাতে এর ব্যবহার ব্যপক। বিশেষ করে ইফতারের জন্য বেগুনী দেশে যেমন জনপ্রিয় তেমনই হাজার মাইল দুরের এই শহরেও বেগুনীবিহীন ইফতারি অকল্পনীয় বলা চলে । সাদাদের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় না হওয়াতে বেগুনের দামটাও বেশ উর্ধমুখেই থাকে ।
তবে একটু সচেতন হলেই কিন্তু বাসার ব্যাকইয়ার্ড কিংবা একটু বড় টবেই অনায়াসেই বেগুনের আবাদ করা যেতে পারে ।
বেগুন বা এগপ্ল্যান্ট বাঙালি মহলে এক জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর সবজি ।
বেগুনের বৈজ্ঞানিক নাম Solanum melongena। এটি তার অনন্য স্বাদ, বিভিন্ন রান্নার উপযোগিতা এবং ঔষধি গুণের জন্য পরিচিত। বেগুনে আছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
বেগুনের বীজ বপনের আদর্শ সময় হলো বসন্ত গ্রীষ্মে। বীজ বপনের সঠিক সময় নির্বাচন ফলন বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ক্যানবেরাতে বেগুন চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর ডিসেম্বর । ডিসেম্বরের পরে বীজ বপন করলে গাছ পরিনত হতে হতেই রাতের বেলা শীত পরার সম্ভবনা থাকে । সে ক্ষেত্রে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম থাকে।
বেগুন চাষের জন্য উর্বর মাটি এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রয়োজন। এটি সু-জলনিষ্কাশন সম্পন্ন দোআঁশ বা বেলে মাটিতে ভালো জন্মে। বেগুনের জন্য তাপমাত্রা ২২ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আদর্শ।
বেগুনের সাথে মরিচ, টমেটো, শসা এবং ফুলকপি মতো সবজি ভালো সহজীবন গড়ে তোলে। এই উদ্ভিদগুলি একে অপরের বৃদ্ধি এবং কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বেগুনের প্রধান কীটপতঙ্গের মধ্যে রয়েছে মাছি, পোকামাকড়, এবং আফিড। নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক কীটনাশকের মাধ্যমে এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা যায়।
Bunnings এ বিভিন্ন জাতের বীজ পাওয়া যায়। তবে উত্তম হচ্ছে একটু পরিনত দেখে চারা সংগ্রহ করা । এতে গাছের বেচে থাকার সম্ভবনা একটু বেশী থাকে ।
উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন এবং জমি যথাযথভাবে তৈরি করা বেগুন চাষের প্রাথমিক ধাপ। জমিতে যথেষ্ট জৈব সার এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত মিনারেল মিশ্রণ করা উচিত।
রোগমুক্ত সবল চারা পেতে হলে বীজতলার মাটি শোধন করে নিতে হবে। বেগুন গাছ পরিনত হবার পরও পাতা শুকিয়ে কিংবা কান্ড মরে যাওয়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে । গত কয়েক বছর এই সমস্যার কারনে ভালো ফলন পাচ্ছিলাম না ।
সুতরাং বেগুন চাষের আগেই মাটি শোধন করে নিতে হবে।
মাটি শোধন পদ্ধতিঃ
বীজ বপনের পূর্বে বীজতলার মাটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে শোধন করা যায়। এতে অনেক মাটিবাহিত রোগ, পোকামাকড় আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে দমন করা যায়। যেমন- সৌরতাপ ব্যবহার করে (কালো পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে); জলীয় বাষ্প ব্যবহার করে; ধোঁয়া ব্যবহার করে; রাসায়নিক দ্রব্য যেমন ফরমালডিহাইড ব্যবহার করে; কাঠের গুঁড়া পুড়িয়ে; পোলট্রি রিফিউজ ব্যবহার করে।
উল্লেখিত বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সবচাইতে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো সৌরতাপ ব্যবহার করে বীজতলার মাটি শোধন করা। এক্ষেত্রে বীজ বা চারা বপনের ১২-১৫ দিন পূর্বে বীজতলার মাটি যথাযথভাবে তৈরি করে ভালোভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। পরে পলিথিন দিয়ে বায়ু নিরোধক করে ঢেকে রাখতে হবে। এতে সারা দিনের সূর্যালোকে পলিথিনের ভেতরে বীজতলার মাটির তাপমাত্রা যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে ও অনেকাংশে মাটিবাহিত রোগজীবাণু দমন করবে। এছাড়াও অনেক ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও আগাছা দমন হয়। বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সবজি চারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বীজতলায় রাসায়নিক দ্রব্য যেমন ফরমালডিহাইড পানিতে মিশিয়ে (৫০: ১) ব্যবহার করা হয়।
আপনারা যারা টরে বেগুন চাষের চিন্তা করছেন - টবের মাটিতে জৈব সার ভালো করে মিশিয়ে, বেশ কয়েক বার নিরানি দিবেন, কোন আগাছা থাকলে তুলে ফেলবেন , মাটিটা ঝুরঝুরে করে নেবেন , প্রয়োজন বোধে পটিমিক্সও ব্যবহার করতে পারেন। তারপর ফেলে দেয়া পলিথিন দিয়ে বায়ু নিরোধক করে ১০/১৫ দিন ঢেকে রাখতে হবে।
বেগুনের বীজ সারি সারি করে বা ছিটিয়ে বপন করা হয়। প্রতি সারির মধ্যে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।তবে এক্ষেত্রে সাফল্যের হার তুলন মূলক ভাবে কমই থাকে ।
যেহেতু বানিজ্যিক চাষের চিন্তা আমাদের থাকছে না , সে ক্ষেত্রে Bunnings থেকে পরিনত চারা সংগ্রহ করে লাগানোটই উত্তর । এতে চারার মৃত্যুর সম্ভবনা কম থাকে ।
বীজতলায় নিয়মিত সেচ এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা উচিত।
টবে লাগালে অবশ্যই পানি নিষ্কাশন যথাযথ ব্যবস্হা থাকতে হবে ।
বেগুনের ভালো বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, এবং পটাশ সমৃদ্ধ সারের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন।ক্যামিকেল সার এর চেয়ে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করাই উত্তম , সে ক্ষেত্রে গরু বা ভেড়ার সর সংগ্রহ করতে পারেন।
নিয়মিত see weed solution যেমন seasol সপ্তাহে একবার প্রদান করুন।
নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করে উদ্ভিদের স্বাস্থ্য ভালো রাখা উচিত।
বেগুনের গাছে প্রচলিত রোগবালাই যেমন ফাঙ্গাস এবং ভাইরাস ইনফেকশন প্রতিরোধ এবং দমনের জন্য প্রাকৃতিক উপায় এবং উপযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা জরুরি।
ভিজিয়ে রাখা পিয়াজের খোশার পানি কিংবা হালকা ডিস ওয়াসিং লিকুইড মেশানো পানি নিয়মিত স্প্রে করুন।
বেগুন পরিপক্ক হলে তা সংগ্রহ করা হয়। পরিপক্কতার লক্ষণ হলো উজ্জ্বল রঙ এবং নরম পৃষ্ঠ।
বেগুন একটি পুষ্টিকর সবজি যা বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে আসে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উৎস: বেগুনে নাসুনিন নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা মুক্ত র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে কোষগুলিকে রক্ষা করে।
- হৃদরোগ প্রতিরোধ: বেগুনের ফাইবার এবং পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নতি সাহায্য করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: বেগুনে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- হজমে সাহায্য: বেগুনে প্রচুর আঁশ থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াকে সহজ ও নিয়মিত করে তোলে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ বেগুন ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ক্যান্সার প্রতিরোধ: বেগুনে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।
- মানসিক স্বাস্থ্য: বেগুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি সাহায্য করে।
এই উপকারিতাগুলি বেগুনকে একটি মূল্যবান সবজি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সঠিক পরিমাণে এবং নিয়মিত বেগুন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
বীজ সংরক্ষণের জন্য শুকনো এবং ঠাণ্ডা পরিবেশ আবশ্যক। বীজ শুকিয়ে এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন ।