NA
Na
Na
NA
NA
NA
নাগা মরিচ বা বোম্বাই মরিচ ।নাগা মরিচের তীব্র সুগন্ধ এবং ঝাল বাঙালির ভোজনবিলাসে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
বাঙালি খাবারে নাগা মরিচ (যা বোম্বাই মরিচ নামেও পরিচিত) একটি অনন্য উপাদান। তীব্র ঝাল এবং বিশেষ সুগন্ধের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এই আয়োজনে থাকছে ক্যানবেরায় নাগা বা বোম্বাই মরিচের চাষাবাদ ।
- ক্যানবেরায় ফ্রস্ট বা তুষারপাতের ঝুঁকি থাকে তাই খুব তাড়াতাড়ি গাছ বাইরে লাগানো যাবে না
- চারা তৈরি: আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঘরের ভেতরে (Indoors) বা গ্রিনহাউসে বীজ থেকে চারা তৈরি করা শুরু করুন
- বাইরে স্থানান্তর: যখন বাইরের তাপমাত্রা নিশ্চিতভাবে উষ্ণ হয় (সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর)তখন চারাগুলো বাইরে টবে বা জমিতে লাগান
- বীজ থেকে চারা তৈরি করতে উষ্ণ পরিবেশ প্রয়োজন (২০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা)
- শীতের শেষেঅর্থাৎ আগস্টের দিকে ঘরের জানলার পাশে বা তাপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে চারা তৈরি করুন
- বাইরে লাগানোর আগে চারাগুলোকে ১০-১৪ দিন ধরে ধীরে ধীরে বাইরের আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে ।
নাগা মরিচের প্রধান প্রজাতি ও জাতসমূহ:
- ভুত জলকিয়া (Bhut Jolokia/Ghost Pepper):বিশ্বের অন্যতম ঝাল মরিচ হিসেবে পরিচিত।
- বোম্বাই মরিচ: সিলেট অঞ্চলে এবং ঢাকায় এই নামে বেশি পরিচিতএটি মূলত নাগা মরিচেরই একটি রূপ
- কামরাঙা মরিচ: দেখতে কামরাঙার মতো ভাঁজযুক্ত বলে একে এই নামে ডাকা হয় ।
- নাগাফায়ার (Nagafire): এটি একটি উন্নত জাতযা গাঢ় সবুজ এবং ১০-১২ সেমি লম্বা হয়।
- নাগাফায়ার প্লাস (Nagafire Plus): এই জাতটি পাকলে উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করে ।
- কোবরা চিলি (Cobra Chilli): এটি নাগা মরিচের ইংরেজি নাম এবং শ্রীলঙ্কাতেও পরিচিত
টবে লাগালে , আশেপাশে কিছু ফুলের গাছ রাখবেন যা পরাগায়নে সহায়ক হবে।
ক্যানবেরার সামারের সময় " "Bhut Jolokia" "Ghost Chilli" or "Naga Morich".- এই প্রজাতির নাগা মরিচ Bunnings এ পাওয়া যায়।
- স্থান: দিনের বেলা অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পায় এমন জায়গা নির্বাচন করুন
- মাটি: সুনিষ্কাশিত (Well-drained) ও জৈব সার সমৃদ্ধ মাটি ব্যবহার করুন।
- টবে চাষ: ক্যানবেরার জন্য টবে চাষ করা সুবিধাজনক কারন হঠাৎ ঠান্ডা পড়লে টবটি নিরাপদে সরানো যায় । বড় টব (কমপক্ষে ১০ ইঞ্চি বা তার বেশি) ব্যবহার করুন ।
- নাগা মরিচ ফ্রস্ট বা তুষারপাত একদম সহ্য করতে পারে না ।
- ক্যানবেরার বসন্তের শেষ বা শরতের প্রথম দিকের ঠান্ডা থেকে চারা বাঁচাতে প্রয়োজনে গ্রিনহাউস বা পলিটানেল (Polytunnel) ব্যবহার করুন ।
- গাছের গোড়ায় মাটি আর্দ্র রাখুন তবে পানি জমিয়ে রাখবেন না।
- নিয়মিত কিন্তু পরিমিত মত পানি দিতে হবে মাটি শুকিয়ে গেলে গাছের বৃদ্ধি কমে যাবে ।
- সবজি বা মরিচের জন্য উপযোগী তরল জৈব সার প্রতি ২-৩ সপ্তাহ পরপর ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় যেমন সিসল ।
গাছের গোড়ার আগাছা নিয়মিত পরিস্কার করুন।
সাধারনত খুব একটা পোকামাকরের আক্রমন হয় না। তবে সতর্কতার জন্য ২/১ সপ্তাহ পর পর ভিনেগার মিশ্রিত পানি অথবা পেয়াজের খোসা ভেজানো পানি স্প্রে করুন।
ফসল নিয়মিত তুললে গাছে নতুন করে মরিচ ধরা বাড়ে।
বাঙালি রান্নায় নাগা মরিচের ব্যবহার ও জনপ্রিয় কিছু রেসিপিঃ
- নাগা চিকেন ও মাংস: নাগা মরিচ দিয়ে তৈরি মুরগি বা খাসির মাংসের ভুনা খুব জনপ্রিয়। এটি একটি মশলাদার খাবার যা নাগা মরিচের তীব্র সুগন্ধ ও ঝাঁঝালো স্বাদ এনে দেয়।
- ভর্তা ও চাটনি: নাগা মরিচ ভর্তার স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শুকনো বা কাঁচা নাগা মরিচ দিয়ে আলুর ভর্তাশুঁটকি ভর্তা বা ধনেপাতার চাটনি তৈরি করা হয়। বিশেষ করে শুকনো শুঁটকি ও নাগা মরিচের কম্বিনেশন খুব জনপ্রিয়।
- আচার (Pickles): নাগা মরিচের আচার একটি অনন্য মুখরোচক খাবার যা তেল এবং সিরকায় ভিজিয়ে তৈরি করা হয় ।
- ফুটপাতে বা স্ট্রিট ফুড: ফুচকা চানাচুর কিংবা ঝালমুরি বা বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়ার সাথে নাগা মরিচের হালকা পেস্ট বা টুকরো ব্যবহার করে সেগুলোকে আরও মুখরোচক করা যায়।
- ঐতিহ্যবাহী রান্না: গরম ভাতের সাথে বা ডাল-ভাতের সাথে সামান্য কাঁচা নাগা মরিচ কামড়ে খাওয়ার অভ্যাসও অনেকের রয়েছে।
বাজার থেকে নাগা মরিচের চারা কেনার পর কিছু টিপিস ব্যবহার করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়। প্রথমত চারা একটু পরিপক্ক হলে, ডগার মাথা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছে একাধিক শাখা প্রশাখা গজাবে এবং গাছ বেশ ঝোপরানো হবে। ফলে ফলনও অধিক আসবে।
দ্বিতীয়ত ২/১ সপ্তাহ পর পর কলার খোসা ভেজানো পানি দিলে গাছে প্রচুর ফুল আসবে।