NA
N
N
N
N
N
ভূমিচ্যুত ক্যানবেরার বাঙালির “কামিনীবিলাস” পূর্ণের লক্ষেই আজ আমাদের এই প্রয়াস।
পুস্পবিলাসী বাঙালি কামিনী পছন্দ করেনা এমন বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দুস্কর। বাড়ীর আঙ্গিনায় একটা “যৌবনবতী কামিনী “ - এমন স্বপ্ন প্রকৃতি প্রেমি বাঙালির চিরায়ত স্বপ্ন। কিন্তু বাঙালি যখন স্বভুমি বিতাড়িত, স্বপ্ন কিন্তু তখনও তার পিছু ছাড়েনা।
শাস্ত্রে বলে কামিনী গাছটি আপনার বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি এবং ভারসাম্য বয়ে আনে , এর সবুজ পাতা এবং সুগন্ধি ফুল উন্নয়ন এবং সৌভাগ্যের প্রতিক ।
কামিনি বৈজ্ঞানিক নাম: Murraya paniculata ইংরেজি নাম: Orange Jessamine কামিনী সাধারণত কমলা জুঁই নামেও পরিচিত।
এবার দেখা যাক বাংলায় কামিনীর অর্থ কি? "মোহনীয়" বা "আকর্ষণীয় নারী" । যা সৌন্দর্য এবং আকর্ষণের গুণাবলীকে মূর্ত, নারীত্ব এবং লাবণ্যের সাথে যুক্ত। এতক্ষনে বুঝা গেলো রহস্য ?
ভূমিচ্যুত ক্যানবেরার বাঙালির “কামিনীবিলাস” পূর্ণের লক্ষেই আজ আমাদের এই প্রয়াস।
সাধারনত ক্যানবেরায় জুন/জুলাই যখন ঝুমবৃষ্টি চলে তখন গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময় তবে “কামিনী” বলে কথা।
এই গাছ তুষারপাত পছন্দ করে না। এটি একটি ট্রপিক্যাল/সাবট্রপিক্যাল উদ্ভিদ। তাই ক্যানবেরার তীব্র শীতে গাছটি বাঁচিয়ে রাখতে অবশ্যই এমন জায়গায় লাগাতে হবে যা তুষার বা ফ্রস্ট থেকে সুরক্ষিত।।
বছরের যে কোন সময়ই গাছ সংগ্রহ করতে পারেন তবে কখনই ব্যাকইয়ার্ড কিংবা ফ্রন্ট ইয়ার্ডের উন্মুক্ত জায়গাতে লাগাবেন না।
সরাসরি মাটিতে লাগানোর পরিবর্তে বড় টবে লাগানো ভালো। এতে শীতকালে টবটি সুবিধাজনক স্থানে (যেমন- বারান্দা বা ঘরের ভেতরে) সরিয়ে নেওয়া যায়।
বাড়ির উত্তর দিকের দেয়ালে বা রোদেলা ও উষ্ণ স্থানে, যেখানে সরাসরি বাতাস লাগে না, এমন জায়গায় লাগানো সবচেয়ে ভালো।
কামিনী গাছের জন্য সহায়ক উদ্ভিদের প্রয়োজন হয় না।
সাধারনত এই গাছে পোকামাকরের আক্রমন তেমন হয় না। তবে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য মাসে ২/১ বার ভিনেগার মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে পারেন।
ক্যানবেরার পরিচিত গাছের দোকান গুলেতে কামিনী গাছ পারেন। অনলাইনেও সংগ্রহ করতে পারেন।
প্রথম বছর নিয়মিত পানি দিতে হবে, তবে মাটি যেন সবসময় ভেজা বা কাদা না থাকে। বসন্তকালে ভালো বাড়ে, এ সময় সার দেওয়া যেতে পারে।
প্রথম ২/১ বছর বিশেষ করে ক্যানবেরাতে কামিনী গাছের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিয়মিত পানি দিতে হবে তবে লক্ষ্য রাখতে হবে পানি যেনো কোন ভাবেই গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।
একটা বড় টবে গাছটি রোপন করে পারগোলা কিংবা ডেকে রাখুন।
অবশ্যই self watering tub ব্যবহার করবেন। এতে ক্যানবেরার চান্দিফাটা সামারে ২/১ দিন পানি দেয়া ভুলে গেলেও বিপদ থেকে মুক্ত থাকবেন।
Bunnings কিংবা Aldi র all purpose fertiliser মাসে ২/১ বার কন্টিনারের গায়ে লেখা নির্দেশ মত প্রয়োগ করুন।
কয়েকদিনের কলার খোশা ভেজানো পানি প্রয়োগে গাছে ফুলের সমাহার বাড়বে।
সপ্তাহে ২/১ বার seaweed solution প্রয়োগ করলে গাছের শেকড়ের স্বাস্হ্যের বিকাশ ঘটে।
নিয়মিত গাছের গোড়া এবং আশেপাশের আগাছা পরিস্কার করুন। গাছের গোড়ায় মালচ ব্যবহারে মাটির আর্দ্রতা যেমন রক্ষা করা যায়, আগাছারও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কামিনী গাছে খুব একটা পোকামাকরের আক্রমন হয় না। তবে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য মাসে ২/১ বার ভিনেগার মিশ্রিত পানি স্প্রে করতে পারেন।
- ঔষধি গুণ: কামিনী গাছের পাতা ও মূলের ছাল আমাশয়, সর্দি, কাটা-ছেঁড়া এবং বাতের ব্যথায় দারুণ উপকারী ।
- মানসিক প্রশান্তি: কামিনী ফুলের তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণ মনকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- সাজসজ্জা: এই গাছ ঘরের শোভা বর্ধন করে। এর পাতা দিয়ে বিয়ের মণ্ডপ, গাড়ি ও অনুষ্ঠান সজ্জার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।
- কীটনাশক: কামিনী গাছের পাতা বাটা নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মালিশ করলে ব্যথা উপশম হয়।
মহা মানসিক প্রশান্তির এর আঁধার প্রিয় কামিনী। ভাবুনতো ক্যানবেরায় আপনার বেড রুমের পাশে কিংবা ডেকের ধারে চকচকে সবুজ পাতার ভীড়ে অজস্র সাদা কামিনী তার মায়াবী সুবাস দিয়ে সন্ধা গুলো রাঙিয়ে যায়।