N
N
N
N
N
N
বাঙালির রসনা বিলাসে গাঁজর।
গুটি কয়েক রান্না আর সালাদে ছাড়া বাঙালির রসনা বিলাসে গাঁজরের খুব একটা ব্যবহার দেখা যায়না। আসুন দেখা যাক আমাদের ছোট্ট ব্যাকইয়ার্ড এ পুষ্টি গুনে সমৃদ্ধ এই সবজি চাষের সহজ উপায় এবং এর বহুমাত্রিক কিছু ব্যবহার।
ক্যানবেরাতে গাজর চাষের জন্য বসন্তকাল থেকে শুরু করে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত (সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি) সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
ক্যানবেরার মতো শীতল জলবায়ুতে আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেও বীজ বপন করা যায়, তবে মাটির তাপমাত্রা অনুকূলে থাকা জরুরি।
সঠিক সময়:
মূল বপন মৌসুম হলো সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি। তবে জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যেও বপন করা সম্ভব যদি মাটির তাপমাত্রা ৮°C থেকে ৩০°C এর মধ্যে থাকে।
সূর্যালোক: প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক পায় এমন স্থান নির্বাচন করুন।
আপনার মাটির ধরন অনুযায়ী জাত বেছে নিন:
- নরম ও ঝুরঝুরে মাটির জন্য: 'Topweight বা Manchester Tableএর মতো লম্বা জাতগুলো ভালো।
- শক্ত বা অগভীর মাটির জন্য: 'Chantenay বা 'Baby Carrot এর মতো খাটো জাতগুলো বেশি উপযোগী।
- বিশেষ জাত: ক্যানবেরার জন্য 'Nantes জাতটি এর মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ জনপ্রিয়।
গাজরের জন্য সহায়ক উদ্ভিদ এর প্রয়োজন হয় না।
Bunnings এ সারা বছরই গাজরের বীজ পারেন। সামারের শুরুতে Aldi তেও পাবেন।
- মাটির ধরন: গাজর হালকা, আলগা এবং ঝুরঝুরে মাটি পছন্দ করে।
- প্রতিবন্ধকতা দূর করা: মাটির পাথর বা শক্ত ঢেলা গাজরের আকৃতি নষ্ট করে দিতে পারে, তাই মাটি ভালোভাবে কুপিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
- সরাসরি বপন: গাজর চারা স্থানান্তর বা ট্রান্সপ্লান্টিং পছন্দ করে না, তাই সরাসরি জমিতে বা টবে বীজ বপন করতে হয়।
- বপন পদ্ধতি: বীজগুলো খুব ছোট হওয়ায় এগুলোকে বালি বা মিহি মাটির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিলে দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হয়।
- সেচ: বীজ অঙ্কুরিত না হওয়া পর্যন্ত মাটির উপরিভাগ আর্দ্র রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভেজা চট বা কাঠ দিয়ে ঢেকে রাখা যেতে পারে যাতে মাটি শুকিয়ে না যায়।
- পাতলা করা (Thinning): চারা ৩ সপ্তাহ বয়সী হলে এবং প্রকৃত পাতা গজালে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলে ২ সেমি দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
- সার: অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে শিকড়ের চেয়ে পাতার বৃদ্ধি বেশি হয়।
ক্যানবেরার বসন্তকালীন তুষারপাত (frost) থেকে চারা রক্ষা করতে প্রতিরক্ষামূলক আবরণ বা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে পারেন।
বীজ বপনের আগে জৈব সার প্রয়োগে মাটি প্রস্তুত করে নিলে, পরে খুব একটা সারের প্রয়োজন হয় না। তবে নিয়মিত seasol প্রয়োগের গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
সিসল ও পানির মিশ্রণ অনুপাত (সাধারণ ব্যবহারের জন্য)
- সাধারণ নিয়ম: ৫০ মিলি (বা ৩ টেবিল চামচ) সিসল কনসেন্ট্রেট ৯ লিটার পানিতে ভালোভাবে মেশান।
- ছোট গাছ/চারা গাছ: ১০-২০ মিলি সিসল ৯ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
- বড় বা স্ট্রেসড গাছ: ৪০-৫০ মিলি সিসল ৯ লিটার পানিতে মেশান।
ব্যবহারের নির্দেশনাবলী
১. পাত্র তৈরি: একটি ৯ লিটারের ঝরণা (watering can) বা বালতিতে পানি নিন এবং তাতে সিসল মিশিয়ে নিন।
২. প্রয়োগ: এই মিশ্রণটি সরাসরি গাছের গোড়ায় মাটি ভিজিয়ে দিন। এছাড়া পাতার ওপর স্প্রে (Foliar spray) হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
৩. সময়কাল: প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর পর এটি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
৪. সতর্কতা: সরাসরি কড়া রোদে বা দিনের উষ্ণ সময়ে এটি ব্যবহার করবেন না। সকালের শুরুতে বা বিকেলের পর ব্যবহার করা ভালো।
সিসল ব্যবহারের উপকারিতা
- মূলের বৃদ্ধি: গাছের মূল বা শিকড় দ্রুত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
- মানসিক চাপ হ্রাস: খরা, তাপ, এবং রোগবালাইয়ের কারণে গাছের স্ট্রেস বা ধকল কমায়।
- মাটির গুণমান: মাটির গঠন উন্নত করে এবং পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
- নিরাপদ: সব ধরণের গাছে (ফুল, ফল, সবজি, লন) ব্যবহার করা নিরাপদ।
দ্রষ্টব্য: ব্যবহারের আগে বোতলের গায়ের নির্দেশনাবলী ভালো করে পড়ে নিন, কারণ বিভিন্ন ধরণের সিসল পণ্যের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে অনুপাত সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
নিয়মিত আগাছা পরিস্কার করে রাখতে হবে।
গাজর তোলার উপযুক্ত সময় হয়েছে কি না তা বোঝার জন্য প্রধানত এর আকার, মাটির ওপরের অংশ এবং রোপণের সময়কাল খেয়াল করতে হয়। গাজর সাধারণত বীজ বোনার ৬০-৮০ দিনের মধ্যে (জাতভেদে ৫০-১০০ দিন) তোলার উপযুক্ত হয়।
গাজর তোলার উপযুক্ত হওয়ার লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- মাটির ওপরের অংশ (Shoulder): গাজরের কাঁধ বা মাটির ঠিক উপরের অংশটি দেখা যায় এবং এটি প্রায় ৩/৪ থেকে ১ ইঞ্চি ব্যাসের (চওড়া) হয়।
- মাটি সরিয়ে পরীক্ষা: গাছের গোড়ার কাছের মাটি আলতো করে সরিয়ে গাজরের ব্যাস বা চওড়া দেখে নিন। যদি মনে হয় যথেষ্ট বড় হয়েছে, তবে এটি তোলার উপযুক্ত ।
- পাতার অবস্থা: গাজরের পাতা যদি সতেজ ও সবুজ থাকে, তবে এটি সাধারণত ভালো বাড়ন্ত গাজরের লক্ষণ ।
- বপনের সময়কাল: বীজ প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বপন করার ৬০-৮০ দিন পর গাজর সংগ্রহ শুরু করা যেতে পারে।
- টেস্ট পুঁল (Test Pull): একটি গাজর তুলে দেখুন। যদি এটি আপনার পছন্দমতো মাপে পৌঁছে থাকে, তবে বাকিগুলোও তুলতে পারেন।
টিপস: গাজর খুব বেশি বড় হতে দিলে তা শক্ত বা কাঠের মতো হয়ে যেতে পারে, তাই সঠিক সময়ে তোলা জরুরি। তোলার সময় পাতা ধরে না টেনে, গোড়ার মাটি আলগা করে তোলা ভালো।
গাজরের চিপস বা স্ন্যাকস
বেশ কিছু গাঁজর ভালো করে পিল করে ছোট ছোট টুকরা করে নিন। এবার অলিভ অয়েল, পরিমান মত লবন, পেপার বা হালকা গুঁড়া মরিচ এবং মধু দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিবেন।
একটা বেকিং ট্রে তে গাজরের টুকরা গুলো ছড়িয়ে দিন, খেয়াল রাখবেন টুকরা গুলো যেনো এক স্তরে থাকে। একটার গায়ে একটা উঠে থাকলে নিচেরটা ভালো তরে বেক হবে না।
এবার আগে থেকে গরম করে রাখা ওভেনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বেক করুন। যদি বেশি করকরে করতে চান তাহলে আরও একটু বেশি রান্না করতে পারেন।
গাজরের হালুয়া কিংবা সালাদের চেয়ে কম সময়েই হতে পরা সুন্দর একটা স্ন্যাকস।