বিটরুট একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সুপারফুড।
N
N
N
N
N
বিটরুট একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সুপারফুড।
বাংগালির খাদ্য তালিকায় বিটরুটের খুব এক চাহিদা দেখা যায় না। তবে আজকাল দেশে কিন্তু এর ব্যবহার চোখে পরে। ক্যানবেরাতে এই সবজিটা সহজেই চাষ যোগ্য। চলুন দেখি এর চাষ প্রকৃয়া এবং আমাদের খাদ্য তালিকায় এর প্রয়োজনীয়তা কেনো।
সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বীজ বপন করা হয়। তবে ভালো ফলনের জন্য লেট স্প্রিং (অক্টোবর-নভেম্বর) বাগ্রীষ্মের শুরুতে চারা লাগানো সবচেয়ে কার্যকর।
ক্যানবেরায় বিটরুট চাষ করার জন্য বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মকাল (সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।ক্যানবেরার মতো শীতল জলবায়ুর অঞ্চলে মাটির তাপমাত্রা যখন ১০°সে-এর উপরে থাকে, তখন বীজ বপন করা ভালো।
ক্যানবেরার আবহাওয়ায় 'Derwent Globe', 'Chioggia' (গোলাপী ও সাদা বলয়যুক্ত), এবং 'Bulls Blood' (গাঢ় লালপাতা) এর মতো জাতগুলো ভালো জন্মে।
বিটরুটের জন্য সহায়ক উদ্ভিদ এর প্রয়োজন হয় না।
আপনার লোকাল Bunnings এ মান সম্পন্য বীজ সারা বছরই পাবেন। সামারের শুরুতে Aldi তে পাওয়া যায়।
বিটরুট প্রচুর রোদ পছন্দ করে। মাটি ঝুরঝুরে, উর্বর এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। রোপণের আগে মাটিতে ভালোমানের কম্পোস্ট বা সার মিশিয়ে নেওয়া উচিত।
বীজগুলো প্রায় ১-২ সেন্টিমিটার গভীরে এবং ১০ সেন্টিমিটার দূরত্বে বপন করুন। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-৩০ সেন্টিমিটাররাখা ভালো।
গাছগুলোতে নিয়মিত পানি দিতে হবে যাতে মাটি সব সময় আর্দ্র থাকে। পানি অভাব হলে শিকড় ফেটে যেতে পারে বা শক্ত হয়েযেতে পারে।
জৈব সার বা কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে গোবর বা কম্পোস্ট সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
২/৩ সপ্তাহে একবার Seasol প্রয়োগ করলে ফলন বৃদ্ধি পাবে।
কোথায় পাবেনঃ
Bunnings এ সারা বছরই গোবর সার এবং Seasol পাবেন। সামারের শুরুতে আপনার লোকাল Aldi তেও পাওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত আগাছা পরিস্কার করতে হবে।
বিটরুট চাষে কিছু প্রচলিত রোগবালাই এবং সেগুলো দমনের কার্যকর উপায় নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. পাতার দাগ (Cercospora Leaf Spot)
এটি বিটরুটের সবচেয়ে সাধারণ এবং ক্ষতিকারক ছত্রাকজনিত রোগ। আর্দ্র আবহাওয়ায় এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
- লক্ষণ: পাতায় ছোট ছোট গোলাকার দাগ পড়ে। দাগের মাঝখানটা ধূসর বা বাদামী এবং চারপাশটা বেগুনি রঙের হয়। ধীরে ধীরে পুরো পাতা শুকিয়ে ঝরে যেতে পারে, যার ফলে বিটরুটের আকার ছোট হয়ে যায়।
- দমন:
- আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা।
- শস্য পর্যায় অনুসরণ করা (একই জমিতে বা টবে বারবার বিট চাষ না করা)।
২. মূল পচা রোগ (Root Rot/Damping-off)
এটি সাধারণত চারা অবস্থায় বা শিকড় বৃদ্ধির সময় দেখা দেয়। বিশেষ করে মাটিতে পানি জমে থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
- লক্ষণ: চারার গোড়া কালো হয়ে পচে যায় এবং চারাটি ঢলে পড়ে। বড় গাছের ক্ষেত্রে শিকড়ে কালো দাগ বা পচন দেখা দেয়।
- দমন:
- জমি বা টবে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখা।
- সুস্থ ও জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে বীজ শোধন করে রোপণ করা।
৩. মরিচা রোগ
ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই ছত্রাক আক্রমণ করে।
- লক্ষণ: পাতার নিচের দিকে ছোট ছোট কালচে বা লালচে রঙের উঁচু দাগ দেখা যায়।
- দমন:
- আক্রান্ত পাতা ছেঁটে ফেলে ধ্বংস করা।
- বাতাস চলাচলের জন্য সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা লাগানো।
৪. পোকা-মাকড় ও দমন
- জাব পোকা (Aphid) ও পাতা খেকো পোকা: এরা পাতার রস শুষে খায় বা পাতা ফুটো করে দেয়।
- দমন: নিয়মিত ভিনেগার বা সাবান মিশ্রিত পানি স্প্রে করুন।
সাধারণ টিপস
- শস্য পর্যায়: জমিতে বা টবে প্রতি ৩ বছর অন্তর ফসলের ধরন পরিবর্তন করুন।
- পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ: জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখুন এবং আক্রান্ত অংশ দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
সাধারণত বপনের ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে বিটরুট সংগ্রহের উপযোগী হয়। বিটগুলো যখন গলফ বলের আকৃতির হয়, তখন সেগুলো সবচেয়ে মিষ্টি ও নরম থাকে।
বিটরুট একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সুপারফুড, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, হার্ট সুস্থ রাখতে, শারীরিক স্ট্যামিনা বাড়াতে এবং হজমশক্তি উন্নতকরতে অত্যন্ত কার্যকরী।