পার্সনিপ - মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত মূলজাতীয় সবজি।
N
N
N
N
N
পার্সনিপ - মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত মূলা জাতীয় সবজি।
বাঙালি খাবারের ক্ষেত্র বড়ই রক্ষনশীল। আমরা দেশ ত্যগ করতে পারি কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে “ মাছে ভাতে বাঙালি“ এই বৃত্তে যেনো বাধা। খাবারের থালায় নতুন কোন সবজি কিংবা মাছ - এটা মেনে নিতে এক প্রজন্ম হয়তো পার হয়ে যায়।
এই নতুন দেশটা যেমন আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে আসুন কিছু নতুন সবজিতেও অভ্যস্ত হই।
পার্সনিপ - মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত মূলা জাতীয় সবজি। প্রথম যখন দেখি মুলাই ভেবে নিয়েছিলাম। আসলে দেখতে প্রায় এক রকম হলেও এরা কিন্তু এক না। না খেলে এর পার্থক্য বুঝা যাবেনা। মুলা হলো ঝাল ও কড়া স্বাদের সবজি, আর পারসনিপ হলো মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত মূলা জাতীয় সবজি।
ক্যানবেরায় পার্সনিপ চাষের জন্য সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস (গ্রীষ্মের শেষ থেকে শরতের শুরু)।
এই সময়ে রোপণ করলে শীতকালে (শীতের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত) ফসল তোলা যায়।
ক্যানবেরার জলবায়ুতে পার্সনিপ (Parsnip) একটি চমৎকার শীতকালীন সবজি। এটি মূলত ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং মাটির নিচে শিকড় বা মূল হিসেবে জন্মায়।
পার্সনিপ চাষের শুরুতে গাজর বা মূলা একসাথে রোপণ করা যেতে পারে।
আপনার লোকাল Bunnings এ সারা বছরই পার্সনিপ এর বীজ পাবেন।
- পার্সনিপ গভীর এবং আলগা মাটি পছন্দ করে। মাটি থেকে পাথর, শক্ত ঢেলা বা শিকড় সরিয়ে ফেলতে হবে, নাহলে মূল সোজা না হয়ে বেঁকে যেতে পারে।
- মাটি তৈরীর সময় ভালো জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিন।
- সরাসরি বপন: পার্সনিপ চারা প্রতিস্থাপন (transplant) পছন্দ করে না, তাই সরাসরি বাগানের মাটিতে বা টবে বীজ বপন করা উচিত।
- গভীরতা ও দূরত্ব: বীজগুলি প্রায় ০.৫ - ১ সেমি (6mm - 1cm) গভীরে বপন করুন। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সেমি রাখা ভালো।
- ঘনত্ব: পার্সনিপের বীজ অঙ্কুরোদগমে সময় বেশি নেয় এবং কম গজাতে পারে, তাই একটু ঘন করে বীজ বুনুন।
- অঙ্কুরোদগম: বীজ গজাতে সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
- আর্দ্রতা: মাটি সবসময় আর্দ্র (moist) রাখতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত ভেজা বা শুকনো করা যাবে না।
- আর্দ্রতা ধরে রাখা: মাটি শুকিয়ে যাওয়া রোধ করতে বীজ বপনের পর মাটির উপরে বস্তা, পুরনো চাদর বা শক্ত কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেতে পারে।
- চারা পাতলা করা: চারা ২-৩টি পাতা বিশিষ্ট হলে, চারাগুলোর মধ্যে ৭-১০ সেমি দূরত্ব রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলুন।
বীজতলার আগাছা নিয়মিত পরিস্কার করুন।
ক্যাঙ্কার (Parsnip Canker): এটি পার্সনিপের সবথেকে মারাত্মক রোগ। এতে শিকড়ের উপরিভাগ বা কাঁধে কালো বা কমলা-বাদামী দাগ পড়ে এবং পচন ধরে। মাটি অম্লীয় হলে বা শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ রোগ বেশি হয়।
প্রতিকার: ভালোভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা,মাটিতে বা টবে যেনো কোন ভাবেই পানি জমে না থাকে। ফসলের আবর্তন (Crop rotation) করা এবং শিকড়ের কাঁধ অংশ মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা।
পাতার দাগ রোগ (Leaf Spot): অল্টারনারিয়া বা সারকোস্পোরা নামক ছত্রাকের কারণে পাতায় ছোট ছোট কোণাকৃতি হলুদ-সবুজ বা গাঢ় বাদামী দাগ দেখা যায়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি বেশি ছড়ায়।
প্রতিকার: আক্রান্ত পাতা ছিঁড়ে ফেলা, গাছের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁকা রাখা এবং উপরিভাগ থেকে পানি দেওয়া (Overhead watering) এড়িয়ে চলতে হবে।
পাউডারি মিলডিউ (Powdery Mildew): পাতার উভয় পাশে সাদা পাউডারের মতো আবরণ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে পুরো পাতায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পাতা শুকিয়ে যায়।
প্রতিকার: এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করুন এবং গাছে বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা রাখুন।
- এফিড বা জাব পোকা (Aphids): এরা পাতার উল্টো দিকে থাকে এবং রস চুষে খায়, ফলে পাতা কুকড়ে যায় এবং আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে।
- দমন: পানির তীব্র ঝাপটা দিয়ে পোকা ফেলে দেওয়া বা সাবান মিশ্রিত পানি স্প্রে করুন।
গাজর মাছি (Carrot Rust Fly)
: এদের লার্ভা শিকড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে, যা শিকড়কে অকেজো করে দেয়।
- দমন: মশারির মতো জাল (Insects mesh) দিয়ে ক্ষেত ঢেকে রাখা।
কাটুই পোকা (Cutworms)
: এরা কচি চারার গোড়া কেটে দেয়।
- বীজ বোনার প্রায় ৯০-১৩০ দিন পর ফসল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।
- প্রথম দিকের বা তরুণ মূলগুলো সুস্বাদু হয়, তবে পুরোপুরি পরিপক্ক হতে শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে।
পারসনিপের স্বাদ গাজরের মতো, তবে অনেক বেশি মিষ্টি, মাটির গন্ধযুক্ত (earthy) এবং সুগন্ধি। এটিতে মূলার মতো কোনো ঝাল বা তেতো ভাব নেই।
এটি কাঁচা খাওয়া হলেও রান্না বা রোস্ট করলে এর মিষ্টি ভাব বেশি ফুটে ওঠে। এটি উচ্চ ফাইবার, পটাশিয়াম, এবং ভিটামিন C ও E এর একটি ভালো উৎস।
সতর্কবার্তা
পার্সনিপ গাছের পাতা বা কাণ্ড নিয়ে কাজ করার সময় সাবধানে থাকা উচিত। এর রসে থাকা উপাদান সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বকে ফুসকুড়ি বা গুরুতর প্রদাহ (Phytophotodermatitis) সৃষ্টি করতে পারে। তাই কাজ করার সময় গ্লাভস ও লম্বা হাতার পোশাক পরা নিরাপদ।