মরিচবিহীন বংগালীর রসনা পরিতৃপ্ত হয় না বললেই চলে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ তো কোন কোন খাবারের অন্যতম প্রধানআকর্ষণ। ধোয়া উঠা গরম ভাতের সাথে ভাজা ইলিশ সাথে একটা কাঁচা মরিচ আহা ……
শীত প্রধান ক্যানবেরার বাসায় দুই একটা মরিচের গাছ কিন্তু অনায়াসেই একটা পরিবারের চাহিদা পূর্ণ করতে পারে। অনেকবাসাতে তো জায়গার স্বল্পতা তারপরও চাইলে কিন্তু টবেও করা যায় । টবে মরিচের সার্থক উৎপাদন চাইলে কিছু কৌশল জানতেহবে। আজ এই বিষয় নিয়ে কথা হোক -
টবে মরিচ গাছে অধিক ফলন পাওয়ার জন্য সঠিক মাটি তৈরি, নিয়মিত সার প্রয়োগ এবং বিশেষ কিছু কাটিং পদ্ধতি অনুসরণকরা প্রয়োজন। নিচে ফলন বাড়ানোর কার্যকর উপায়গুলো দেওয়া হলো:
- মাটি তৈরি: মরিচ গাছের জন্য দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। টবে ১:১ অনুপাতে মাটি ও পচা গোবর সার মিশিয়েআদর্শ মাটি তৈরি করুন। গোবরের সার কোথায় পাবেন? আপনার স্হানীয় Bunnings এ গেলেই পেয়ে যাবেন।
- সার প্রয়োগ:
- গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর এক চামচ কম্পোস্ট বা গোবর সার গাছের গোড়ায় দিন।
- ফুল ও ফল আসার সময় পটাশযুক্ত সার, হাড়ের গুঁড়ো ব্যবহার করলে ফলন বৃদ্ধি পায়। হাড়ের গুঁড়ো কোথায়পাবেন ? ঐ যে Bunnings । (blood and bone fertilizer)
- ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করতে গুঁড়ো করা ডিমের খোসা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন, যা ফুল ঝরা রোধকরে।সুতরাং এখন থেকে ডিমের খোসা সংরক্ষন করুন এবং ব্যবহার করুন।
- সূর্যালোক ও পানি: মরিচ গাছ পর্যাপ্ত রোদ পছন্দ করে, তাই প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা কড়া রোদ পায় এমন স্থানে টবরাখুন। মাটি শুকিয়ে আসলে পানি দিন, তবে অতিরিক্ত পানি যাতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখুন, কারণ জলাবদ্ধতাফুল ঝরিয়ে দেয়।
- ৩জি কাটিং (3G Cutting): গাছের প্রধান শাখাটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় (প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি) হলে মাথা ভেঙে দিলে অনেক নতুনশাখা বের হয়। একে ৩জি কাটিং বলে, যা গাছকে ঝোপালো করে এবং ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- পোকামাকড় দমন: পাতা কুঁকড়ে যাওয়া বা সাদা মাছির উপদ্রব কমাতে নিয়মিত ভিনেগার মিশ্রিত পানি স্প্রে করুন অথবাসাবান পানি দিয়ে গাছ ধুয়ে দিন।
- ছাঁটাই: পুরনো ও হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা এবং অপ্রয়োজনীয় শাখা কেটে ফেললে গাছ দ্রুত পুষ্টি পায় এবং নতুন ফলআসে।
সবাই ভালো থাকবেন।
Happy Gardening.