পুরানো ফয়েল বাক্স/ট্রে ঝুলন্ত পদ্ধতি”

“পুরানো ফয়েল বাক্স/ট্রে ঝুলন্ত পদ্ধতি” 
Old Aluminium foil box or tray hanging method

এই দেশটাতে স্হায়ী বসতি গড়ার পর কথাবার্তা , আচার আচরনে যেমন পরিবর্তন মেনে নিতে হয়েছে, খাদ্যাভাসেরও অনেক পরিবর্তনও আসবে এটাই বাস্তব। আজকাল প্রাতরাশ হচ্ছে উদ্ভিদ থেকে তৈরি এক ধরণের পানীয়(প্ল্যান্ট-বেসড মিল্ক) সাথে রাসায়নিকমুক্ত যবজাতীয় শস্য (অরগানিক ওটস) আর এক চামচ মধু, সাথে চিনি মুক্ত ধোয়া উঠা কফি, ভাবা যায়? ডিম ভাজির সাথে হাতে বানানো রুটি সাথে দুধ চা, আহা এতো এখন শুধুই স্মৃতি। মধ্যাহ্নভোজ ? দুই টুকরা পাউরুটির মাঝে পনির দিয়ে টোস্টারের মাইকা চিপায় বাদামি রং ধারন করাইয়া, পনির গলাইয়া সাথে একটা চিনিচম্পা (Lady finger banana )কলা কিংবা একটা কমলা। দুপুরের ঝিমানি চেপে বসেছ? ওই যে অর্ধ কাপ চিনিমুক্ত ক্যাপিচিনো?

রাতের ভোজ? প্রথমেই বলে রাখি এই শব্দটার একটু বিবর্তন এসে গেছে, এই জীবনে। ভোজ শব্দটা হৃদয় মানষে যে মোরগ মোসাল্লাম কিংবা চিংড়ির মালাইকারির স্বপ্ন দেখাইতো তাহা আজ সুদুর পরাহত। তাই ইহা এখন রাতের খাবার। আর মেনু ? প্রধান আইটেম হচ্ছে  কিছু ঘাসপাতা সহযোগে টমেটু,শশা,ছোলা সিদ্ধ, মধ্যপ্রাচীয় কিংবা ভূমধ্যসাগরীয় জলপাই, ঝুড়ি করা লাল পেয়াজ, কিছুটা লবন সহযোগে জলপাই তেল এর সাথে একটা এভোকাডো টুকরো, আর কিছুটা গোলমরিচের গুঁড়া। ও হ্যা সাথে ১/২ টা অর্ধ সেদ্ধ ডিম হতে পারে , কিংবা মুরগী অথবা ভেড়া কিংবা গরুর অর্ধ পোড়া একটুকরো মাংস। অথবা বারামুন্ডি নায়তো স্যামন ভাজা। মাছে ভাতে বাঙালির এ কোন অধঃপতন?  

এবার ওই ঘাসপাতার শানে নজুলটায় আসা যাক। লেটুস জাতীয় কিছু সবুজ সবজি না থাকলে সালাদ আবার তার  উঁচ্চ বংশীয় মহার্ঘতা হতে চ্যুত হয়ে জাঁত হারায়। ধনেপাতা যেমন  বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির চ্যুতি নিবারনের মহৌষধ, লেটুসপাতার ভূমিকা অনেকটা তেমনই।তবে শীতের এই সময়টায় লেটুসপাতা বেশ উঁচ্চ মূল্যের সবজি হয়ে উঠছে আজকাল। সম্ভবত হরমুজ এফেক্ট, ট্রাম্প-খামেনির ঝগড়াঝাটিতে লেটুসের জন্ম আজ নিয়ন্ত্রিত। এর বিকল্প আমার কাছে পার্সলি পাতা। খুব সহজেই উৎপাদন করা যায়। স্বাদটাও বেশ উপাদেয়। অনেকটা ধনেপাতার পরিপূরক।

তবে সাম্প্রতিক সময় ঘটনা যেটা ঘরটছিলো তা হচ্ছে - শুধু আমিই না, বাগানের পাখপাখালিদের কাছেও পার্সলি পাতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।গত কয়েক দিনে ওরা আমার বাগানের পার্সলি প্রায় নির্বংশ করার পর্যায়। মহা চিন্তার বিষয়। একদিকে  হরমুজ এফেক্ট অন্য দিকে পাখিদের উৎপাত।ঘাটাধাটির চললো বেশ কয়েকদিন। এক পর্যায় AI বলছে - বাংলাদেশে কোন এক সময় পাখিদের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশে কৃষকরা না কি পুরানো CD ঝুলিয়ে রাখতো। কি ভাবে এটা কাজ করতো? CD তে না কি সূর্যের আলোর  রিফ্লেকশন হতো যা পাখিদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করে। আহা … সে না হয় বুঝা গেলো কিন্তু CD পাবো কোথায়? এর বিকল্পইবা কি হতে পারে? এই টেকনলজির ব্যবহারতো সেই প্রাগ ঐতিহাসিক কালেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বড় ফয়েল এর বাক্স আর ট্রে গুলো সেলফ ওয়াটারিং সিস্টেম হিসাবে টবের নিচে ব্যবহার করি। সেদিন দুপুরে দেখি ট্রে গুলো খালি পরে আছে তবে সূর্যের আলো বেশ প্রতিফলিত হচ্ছে। গ্যালিলিওর “ইউরেকার” মতই মনে হলো। ঝুলায়ে দিলাম ফয়েল এর ট্রে গুলো। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসাবে সাদা রং এর দই এর ডিববাও এরটা ঝুলায়ে দিলাম। সাদা রং ও তো সূর্যের আলোর প্রতিফলিত বেশ ভালোই করে। দেখা যাক না, কাজ হয় কি না। আরও একটা ঘটনা ঘটলো - ব্যপক বাতাসের সময় বাক্স আর দই এর ডিববা ধুরুমধারুম আওয়াজ করে পাখিদের ভীতির কারন হয়ে দাঁড়ালো।

নিবির পর্যবেক্ষণ চললো বেশ কিছুদিন। ফলাফল বেশ ইতিবাচক। অল্প কিছুদিনেই পার্সলি গাছ গুলো নতুন পাতা ছেড়ে দিয়ে সবুজ হয়ে উঠলো। আর এরই নাম - “ পুরানো ফয়েল বাক্স/ট্রে ঝুলন্ত পদ্ধতি”

ও হ্যা ভালো কথা এই পরবাসী জীবন খাদ্যাভাসের ব্যপক বিবর্তন  ঘটালেও সপ্তাহান্তে কিন্তু শুটকি দিয়ে ধোয়াময় গরম ভাত আর ডালের অমৃত থেকে এখনও বিচ্যুত করতে পারেনি।

সবাই ভালো থাকবেন 
প্রকৃতি সাথেই থাকবেন।

Card Image
Image
ফয়েল বাক্স
Short description
ফয়েল বাক্স ঝুলন্ত পদ্ধতি